বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাবে বিরাট টানাপোড়েন, কনভেনশনে ঘোষণা নয়া কমিটি, বর্তমান এক কার্যকর্তার পদত্যাগ, সরগরম সংবাদমহল
বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট প্রেস ক্লাব (বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব) -এর সদস্যদের এক বড় অংশের উদ্যোগে রবিবার কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছিল পারবীরহাটায় একটি হোটেলের সভাগৃহে। এই সংগঠনের বর্তমান কার্যকর্তাদের কার্যাবলী নিয়ে এই কনভেনশনে নানা প্রশ্ন ওঠে। বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব থেকে অন্যায় ভাবে ১৭ জন সদস্যকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এদিকে কনভেনশনে ২০২৬২০২৮ মেয়াদের পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। এদিকে জানা গিয়েছে, বর্তমান প্রেস ক্লাবের অন্যতম এক কার্যকর্তা কার্যকরী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। কার্যকরী কমিটির হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ থেকে লেফ্ট হয়ে গিয়েছেন সোমবার রাতে। অবশ্য এর আগেও তিনি বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। এদিনের কনভেনশন নিয়ে বিরাট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমান জেলার সংবাদ মাধ্যমে।বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা প্রেস ক্লাবের নয়া ভবন নির্মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক পার্থ চৌধুরী, জগন্নাথ ভৌমিক। ওই ভবন নির্মান করার জমি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকী জনৈক সদস্য ১০০ বস্তা সিমেন্ট দিয়েছিল, তাও সাধারণ সদস্যদের জানানো হয়নি বলে জোরালো অভিযোগ করা হয়েছে। এদিনের কনভেনশন থেকে বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাব-এর ২০২৬২০২৮ মেয়াদের পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। নতুন কার্যকরী কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন সদস্য মিথিলেশ রায় ও স্বরূপ মুখার্জী। প্রস্তাব সমর্থন করেন আব্দুস সবুর এবং উত্তম দাস। সভায় এই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী অভিজিৎ তা, বিধায়ক সুভাষ পাত্র এবং সৌমেন কার্ফা। ছিলেন চিকিৎসক এস আর ব্যানার্জি, সমাজসেবী পূরব সাম, দেবজ্যোতি সিংহরায়, গৌরব সমাদ্দার, বিশ্বেশ্বর চৌধুরী, আইনজীবী রমেশ সিং। নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন পার্থ চৌধুরী। কার্যকরী সভাপতি হয়েছেন সোমনাথ ভট্টাচার্য এবং সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সন্দীপ ঘোষ চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন প্রসেনজিৎ সামন্ত। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সুজাতা মেহারা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ঋষিগোপাল মণ্ডল, সহ-সম্পাদক পদে সন্তোষ দাস, ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রসূন সামন্ত, কোষাধ্যক্ষ পদে আমিনুর রহমান এবং অফিস সম্পাদক পদে কৌশিক সিনহা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও কমিটির স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তারকনাথ রায়, শ্যামল মুখার্জী ও জগন্নাথ ভৌমিক। কার্যকরী কমিটির সদস্যরা হলেন বিশ্বনাথ পাল, অরূপ লাহা, বিজন ঘোষ, রাম নারায়ণ কুণ্ডু, সুজিত দত্ত, অভিজিৎ সাহা, সুদিন মণ্ডল, সুমিত ভগত, সুমনা সামন্ত, মানস দাস, বিশ্বজিৎ হাজরা, নয়ন রায়, মনোতোষ পোদ্দার, শেখ শাহজাহান, রঞ্জিত পণ্ডিত, তনুশ্রী ব্যানার্জী, উদিত সিংহ, ধীমান রায়, রাধামাধব মণ্ডল, অসিত রাউত, অতনু হাজরা। তবে সুজাতা মেহেরা সোশাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছেন তিনি কোনও পদে থাকতে চান না।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপদেষ্টামণ্ডলীতে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, মন্ত্রী কলিতা মাঝি, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং বিধায়ক মানব গুহ, অরুণ হালদার, সুভাষ পাত্র, রাজু পাত্র, সৌমেন কার্ফা, অনাদি ঘোষ, শিবাশিস ঘোষ, কৃষ্ণ ঘোষ, গোপাল চট্টোপাধ্যায়, সৈকত পাঁজা, সিদ্ধার্থ মজুমদার ও প্রাণকৃষ্ণ তফাদার। এছাড়াও উপদেষ্টা মণ্ডলীতে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসাবে রয়েছেন সমাজসেবী অভিজিৎ তা, ড. এসআর ব্যানার্জী, পূরব শাম ও দেবজ্যোতি সিংহ রায়, পিপি সদন তা, এপিপি রমেশ কুমার সিং এবং শিক্ষাবিদ জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও সুদত্তা ব্যানার্জী। জেলার সব কটি মহকুমা থেকেই ১১৫ জন সাংবাদিক এই কনভেনশনে অংশ নেন। তবে নতুন কমিটি ঘোষণার পর অন্য কমিটি থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

